সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ১ শতাংশের মতো কম হয়েছে প্রকৃত রপ্তানি। এ বাস্তবতার মধ্যেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন ডলার বা ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে। এটি গত অর্থবছরের প্রকৃত রপ্তানি আয়ের চেয়ে প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে বড় আয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে চলতি অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার খসড়া তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে খসড়া লক্ষ্যমাত্রার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। আগামী সপ্তাহে বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পণ্য ও সেবা রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করতে পারেন।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কৃষি, মৎস্য, চা ও ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প পণ্যসংক্রান্ত সরকারি দপ্তর ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে ইপিবি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা কত হতে পারে সে বিষয়ে মতামত দেন। সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিস্থিতি, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারের চাহিদা পর্যালোচনা করা হয়। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তিসহ সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব নিয়েও আলােচনা হয়। এ সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লষণ ও সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কাছ থেকে এ বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। বিজিএমইএ গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ওপর ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে বিকেএমইএর পক্ষ থেকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। ইপিবির সঙ্গে আলোচনায়ও এ সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে সংগঠন দুটি। তৈরি পোশাক খাতে নতুন অর্থবছর ৪ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার প্রস্তাব রয়েছে ইপিবির খসড়ায়।
