বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠুর চরমোহনা গ্রামের বাড়িতে এক শালিস বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় মিঠুসহ ১০নম্বর রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকসহ উভয়পক্ষের লোক উপস্থিত ছিলেন।
মিঠু বলেন, মেয়েটির মা নেই, পরিবারটি গরিব। তাদের অনুরোধে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।
রোববার বেলা ১১টায় রায়পুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড দেবিপুর গ্রামের চালতাতুলি এলাকায় হয়রানির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে রায়পুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শুক্কুর মিঝিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত শুক্কুর থানা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।
অভিযোগ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী (১৫) রায়পুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। রোববার সকালে সে ময়লা ফেলতে ঘর থেকে বের হয়। এ সময় বাড়ির গেটের সামনে থাকা শুক্কুর পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে পাশের অটোরিকশা রাখার কক্ষে নিয়ে যান৷ সেখানে যৌনহয়রানির চেষ্টা করা হলে সে চিৎকার দেয়। এতে তার খালা ও নানি চলে এলে শুক্কুর পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কিশোরীর খালা থানায় শুক্কুরসহ দুজনের নামে এজাহার দেন। অন্য অভিযুক্ত হচ্ছেন শুক্কুরের মেয়ে জামাই ও উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন রানা। তিনি ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয়ে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর খালা বলেন, আমার পরিবার অভিযুক্ত শুক্কুর মিঝি ও তার জামাতার লোকজনের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। ৩ থেকে ৪ জন সাংবাদিক ছাড়া আমাদের পক্ষে কোনো লোক কথা বলছেন না। শুক্কুর মিজির লোক সমঝোতার জন্য চাপসৃষ্টি করে আসছেন। তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয়ভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠুর বাড়িতে রাত ১০টায় শালিস বৈঠক বসে ১২টায় শেষ হয়। সেখানে এক লাখ টাকা জরিমানা ও জুতাপেটা করে আমাদের কাছে মাফ চাওয়ানো হয়। দলের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে আমরা এখনো টাকা পাইনি।
অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন রানা বলেন, আমার শ্বশুরকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। অভিযোগকারী আমার স্ত্রীর বান্ধবী। এজন্য ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার জন্য বলেছিলাম। আমার বিরুদ্ধেও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা মিথ্যা।
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, শুক্কুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তিনি আটক নন। অভিযোগকারী থানায় মামলা করবে না বলে জানিয়েছেন।
