উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হবে

সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, যৌন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিশু-কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’ আসরের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা। ‘শিশুর নিরাপদ জীবন; প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্বে করেন খেলাঘরের চেয়ারপারসন গবেষক ড. কাজী মোজাম্মেল হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. লেনিন চৌধুরী।

বক্তৃতা করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যপক ড. সামিনা লুৎফা, ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আবু সাঈদ, শিল্পী তামান্না রহমান, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, প্রকৌশলী আলী ইদ্রিস, বাদল রায়, প্রকৌশলী শ্যামল বিশ্বাস, খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর, সাংবাদিক উম্মুল ওয়ারা সুইটি, ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী, শিশু প্রতিনিধি অদ্রিতা রায় প্রমুখ।সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে ১৮ বছরের কমবয়সী প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ শিশু রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৪০ লাখ পথশিশু এবং ২০ লাখ ৯০ হাজার গৃহকর্মে ও ৩৫ লাখের বেশি শিশু শ্রমিক বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে ৩৩ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন।শিশু ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং, অনলাইন আসক্তি এবং মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

 

সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু কোনো না কোনোভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব, মোবাইল ও ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, পারিবারিক অস্থিরতা এবং সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার, নৈতিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক অসচেতনতার কারণে শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে একটি মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব নয়।

এ ধরণের আরো কিছু খবর

BN