জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হলেও ফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা বেড়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করছে বেসরকারি সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটি বলছে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ৩০ জেলায় দুই শতাধিক সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। অন্তত ৩৫০টি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ভাঙচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে এইচআরএসএস। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের পর সহিংসতায় মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটে দুই যুবক এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক শিশু নিহত হয়েছে। দেশের অধিকাংশ জেলায় নির্বাচনের দিন নির্বাচন ঘিরে ৩৯৩টি অপরাধমূলক ঘটনা যেমন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট, পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শনিবার পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক সাত শতাধিক সহিংসতার ঘটনায় ২ হাজার ৫০৩ জন আহত এবং ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এই সময়ে নির্বাচনী সহিংসতায় ৩৪ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ এবং পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনী কার্যালয়, ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
আরও বলা হয়, সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক ২৫৪টি সহিংসতার ঘটনায় ১ হাজার ৬৫০ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এই সময়ে নির্বাচনী সহিংসতায় ২৪ জন গুলিবিদ্ধ এবং দুই শতাধিক বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনী কার্যালয়, কেন্দ্র ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইজাজুল ইসলাম বলেন, ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, ১৫০টির বেশি স্থানীয় পত্রিকা এবং জেলা প্রতিনিধিদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মো. সাইফুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, তামিম দুদায়েভ খান, আবদুল কাদির প্রমুখ।
মহিলা পরিষদের নিন্দা
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীর প্রতি সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের আগে-পরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সহিংসতার বিষয়ে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
