ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার অভিযানে অ্যানথ্রোপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এআই ভাষা মডেল ‘ক্লদ’ নামে পরিচিত। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)।
ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, অ্যানথ্রোপিক ও ডেটা ফার্ম পালানতির টেকনোলজিসের মধ্যে অংশীদারত্ব আছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এ দুটি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। প্রতিরক্ষা বিভাগ, হোয়াইট হাউস, অ্যানথ্রোপিক এবং পালানতিরের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
গত বুধবার রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, পেন্টাগন ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের এআই টুল ক্লাসিফাইড (গোপনীয়) নেটওয়ার্কে উন্মুক্ত করার চাপ দিচ্ছে। অনেক এআই কোম্পানি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বিশেষ টুল তৈরি করছে। এগুলোর বেশিরভাগই আনক্লাসিফাইড (সাধারণ) নেটওয়ার্কে পাওয়া যায়। যা মূলত সামরিক ও প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার হয়।
অ্যানথ্রোপিকই একমাত্র কোম্পানি যাদের প্রযুক্তি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ক্লাসিফাইড বা গোপনীয় কাজে ব্যবহারযোগ্য। তবে কোম্পানিটির পণ্য ব্যবহারের নীতিমালায় বলা হয়েছে- সহিংসতা সমর্থন, অস্ত্র তৈরি বা নজরদারি চালানোর কাজে ক্লদ এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ।
গত মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে স্ত্রীসহ নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। বর্তমানে তাদের নিউইয়র্কের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলজাজিরা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজের অভিযোগ, কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘গোপন অস্ত্রের’ পরীক্ষা চালিয়েছে। নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণের সময় ওই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
লোপেজের এই অভিযোগ নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ভেনেজুয়েলার গণমাধ্যম এল ইউনিভার্সাল। যেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উদ্ধৃতিতে লেখা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওই অস্ত্রটি ছিল উন্নত সামরিক প্রযুক্তি এবং এআই নির্ভর। যা আগে কখনো ব্যবহার হয়নি।
অপরদিকে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ডিসকম্বোবিউলেটর’ নামের একটি গোপন অস্ত্র ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছিলেন। দাবি করেন, এটি ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অকেজো করে দিয়েছিল।
বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এ নিয়ে আমার বেশি কিছু বলার অনুমতি নেই।’
