একসময় সিনেমায় নিয়মিত মুখ হলেও বর্তমানে অভিনয়ে অনিয়মিত চিত্রনায়িকা শাহনূর। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখান থেকেই নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
শাহনূর জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার শরীরে টিউমার ধরা পড়েছে। এমআরআই পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। অস্ত্রোপচারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগী বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে সবার কাছে চেয়েছেন ক্ষমা।
সোমবার সকালে একটি পোস্টে শাহনূর লেখেন, ‘আমি খুবই ক্ষুদ্র একজন মানুষ। আমার কথা, কাজ বা ব্যবহারে কেউ যদি কখনো কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার ২৬ বছরের ক্যারিয়ারে কখনো নিজের জন্য কিছুই করিনি। সব সময় চেয়েছি অসহায় মানুষদের জন্য কিছু করতে। কখনো কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা, আজেবাজে কথা বলা, কারও ক্ষতি করা বা হিংসা করার চিন্তা আমার মাথায় আসেনি। সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করেছি এবং ইতিবাচক কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি ছোট বাচ্চাদের খুব বেশি ভালোবাসি। তাই পথশিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে সব সময় কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি যেমন আমার আব্বু-আম্মুকে ভালোবাসি, তেমনি ভালোবাসি বৃদ্ধাশ্রমের সব বাবা-মাকে। সে কারণেই বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
নিজের ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমার এত বছরের ক্যারিয়ারে কোনো দিন নিজের জন্য একটি ফ্ল্যাটও কিনিনি, দামি কোনো গাড়িও কিনিনি। সব সময় ভেবেছি, গাড়ি-বাড়ি বা ধনসম্পদ—কিছুই মৃত্যুর পর সঙ্গে যাবে না। কিন্তু মানুষের উপকার করলে তারা যে দোয়া করবেন, সেটাই আমার সঙ্গে যাবে। আমি আপনাদের সবার ভালোবাসা ও দোয়া চাই।’
প্রসঙ্গত, তার পুরো নাম সৈয়দা কামরুন নাহার শাহনূর। ১৯৯৯ সালে ‘ফাঁসির আদেশ’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে যাত্রা যাত্রা শুরু করেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তির আগেই ২০০০ সালে তার অভিনীত ‘জিদ্দি সন্তান’ মুক্তি পায় যেটি ছিল তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র।
তার অভিনীতি সিনেমার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘স্বপ্নের বাসর’, ‘মায়ের জন্য যুদ্ধ’, ‘শেষ যুদ্ধ’, ‘রাজধানী’, ‘নয়ন ভরা জল’, ‘প্রেম সংঘাত’, ‘কারাগার’, ‘সাহসী মানুষ চাই’, ‘লাভ স্টেশন’, ‘অপহরণ’। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত ‘ইন্দুবালা’ সিনেমা। মাঝে বেশকিছু নাটকেও দেখা গেছে তাকে। এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবেও কয়েকবছর কাজ করেছেন শাহনূর।
